তথ্য ও প্রযুক্তির বর্তমান সময়ে ওয়েব ছাড়া কোনো কিছুই কল্পনা করা যায় না। আর ওয়েব সাইটগুলো যে ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে তৈরী করা হয়, তাদের মধ্যে ওয়েব এর দুনিয়ায় রাজত্ব করা Python এর সমকক্ষ হিসেবে বেশ পরিচিতি পেয়েছে – Golang। কোনো ডেভেলপার টীম যখন একটি প্রজেক্ট হাতে নেয় তখন তাদের দুইবার ভাবতে হয় কোন লাঙ্গুয়েজটা ব্যবহার করবে প্রজেক্ট টি সঠিক ভাবে সম্পন্ন করার জন্য! ল্যাংগুয়েজের আলোচনায় সর্ব প্রথম আসে Python এবং Golang।

যাইহোক, এই অসাধারণ প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ দুইটার মধ্যে প্রায়ই দ্বিধা দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়তে হয় ডেভেলপারদের, তার মধ্যে অন্যতম কারণ হলো এদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকা। এই আর্টিকেলে আমরা ল্যাংগুয়েজ দুইটার বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিশদ ও বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করব যা এদের মধ্যে কোনটি সেরা তা খুঁজে বের করতে আপনাকে সহায়তা করবে।

সর্ব প্রথম ভাষা দুইটার সাথে পরিচিত হয়ে নেয়া যাক:

পাইথন আসলে ঠিক কি? – পরিচিতি

  • পাইথন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের মধ্যে সর্বাধিক ব্যবহৃত এবং এটি প্রায় প্রত্যেক ক্ষেত্রেই ব্যবহার উপযোগী একটি ল্যাংগুয়েজ। ডাচ প্রোগ্রামার “গুইডো ভ্যান রসাম (Guido Van Rossum)” এটি তৈরী করেন এবং ১৯৯১ সালে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। 
  • শীর্ষ ৭টি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের মধ্যে এটি একটি যা IEEE স্পেকট্রাম র‍্যাঙ্কিংয়ের বার্ষিক ফলাফলের প্রথম সারির প্রথম প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। 
  • সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে এটি একটি ইন্টারপ্রেটেড ল্যাঙ্গুয়েজ যার মানে এর কোডগুলো কম্পিউটার- রিডেবলে সারিবদ্ধ ভাবে অনুবাদ করে না (সব লাঙ্গুয়েজে এটা বিদ্যমান থাকে না)।
  • পাইথন একটি স্ক্রিপ্ট ল্যাংগুয়েজ এবং একটি গবেষণা বলে এর ব্যবহার ৫.২% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে যা প্রমাণ করে এটি একটি খুব জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। 

গোল্যাং (Golang) পরিচিতি

  • প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ “Go”, যা সাধারণত “Golang” নামে পরিচিত এবং এটি গুগল এর তৈরী করা একটি কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। 
  • 2007 সালে এটির পথচলা শুরু হয়, শেষ হয় 2009 সালে এবং এটি সময় এর বিবর্তনে খুব দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে আর বর্তমান সময়ে দ্রুততম ক্রমবর্ধমান প্রোগ্রামিং ভাষাগুলির মধ্যে একটি।
  • এটি মূলত ‘সি প্রোগ্রামিং’ এর ওপর ভিত্তি করে বানানো হয়েছে তাই এটির মধ্যে C++ এবং C# এর মত অতিরিক্ত (অপ্রয়োজনীয়) কিছু নেই।  সুতরাং বর্তমান সময়ের সকল হাই লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ এর বৈশিষ্ট্য এর মধ্যে বিদ্যমান। 
  • এর প্রধান বৈশিষ্ট্য গুলো হলো অপারেটর ওভারলোডিং, টাইপ ইনহেরিটেন্স এবং পয়েন্টার এরিথমেটিক। এছাড়াও এর অসাধারণ গতি এবং কর্মক্ষমতা সহ একটি শক্তিশালী এবং পরিমিত লাইব্রেরি রয়েছে। 

এই দুইটা ল্যাংগুয়েজই তো ইউজার কে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে থাকে, কিন্তু কিভাবে এরা একে অপরের থেকে আলাদা?

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট/সফটওয়্যার/অ্যাপ্লিকেশন প্রজেক্টগুলির জন্য কোনটি সেরা এবং উপযুক্ত তা মূলত নির্ধারণ করা হয় অনেকগুলো বিষয় এর ওপর ভিত্তি করে:

  • পারফরমেন্স (Performance)
  • স্ক্যাল্যাবিলিটি (Scalability)
  • অ্যাপ্লিকেশনস (Applications)
  • এক্সেকিউশন (Execution)
  • লাইব্রেরি (Libraries)
  • কোডের রিডেবিলিটি (Readability)

এই কারণ গুলো কেন এত গুরুত্বপুর্ণ এবং কি কি পার্থক্য রয়েছে?

চলুন বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা যাক:

  • বিশেষত মাল্টিটাস্কিং এর ক্ষেত্রে অনেক গুলো প্যারামিটার এবং অ্যাপ্লিকেশন চালু থাকে যা একযোগে একাধিক টাস্ক সম্পন্ন করে থাকে। 

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় , যেহেতু কম্পিউটারটিতে শুধুমাত্র একটি সিপিউ (CPU) থাকে তাই অ্যাপ্লিকেশনটি একই সময়ে একাধিক টাস্কে কাজ নাও করতে পারে তবে অ্যাপ্লিকেশনের ভিতরে একাধিক টাস্ক প্রক্রিয়াধীন থাকে। এক্ষেত্রে কম্পিউটারটি নতুন কোনো টাস্ক শুরু করতে পারে না পূর্বের টাস্কটি সঠিক ভাবে সম্পন্ন হবার আগ পর্যন্ত। 

  • অন্যদিকে, প্যারালালিজম (Parallelism) একটি এপ্লিকেশন এর মধ্যে টাস্ক গুলো কে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করে নেয় যা কাজটিকে অনেক সহজ করে তোলে। 
  • পাইথন মূলত সর্বাধিক ব্যবহৃত হয় ডাটা এনালিটিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডিপ লার্নিং, এবং ওয়েব ডেভেলপমেন্ট। অথচ গোল্যাং সিস্টেমস প্রোগ্রামিং, ক্লাউড কম্পিউটিং, ক্লাস্টার কম্পিউটিং ফিল্ডে বেশি ব্যবহৃত হয়, শক্তিশালী এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য লাইব্রেরিগুলির কারণে ওয়েব ডেভেলপমেন্টে বহুল ব্যবহৃত যা আপনাকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি ওয়েব সার্ভার সেটআপ করতে সহায়তা করবে। 
  • পাইথন একটি ডাইনামিক টাইপ আর Golang হলো স্ট্যাটিক্যাল টাইপ ল্যাংগুয়েজ। স্ট্যাটিকালি টাইপ ল্যাংগুয়েজগুলোতে ভ্যারিয়েবল স্পষ্ট ভাবে কপি করা থাকে যার জন্য কোডে যে কোনো বাগ থাকলে তা খুব সহজে খুঁজে পাওয়া যায় এবং তা ফিক্স করা যায়। অন্যদিকে পাইথন ডাইনামিক টাইপ হওয়ায় এমন সুবিধা নেই। 
  • ‘লাইব্রেরি’ সকল ডেভেলপারদের জন্য উপহার স্বরূপ। একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের জন্য চমৎকার লাইব্রেরি থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিক থেকে পাইথন সবার থেকে ওপরে অবস্থান করবে এটা নিশ্চিত। কেননা পাইথন অ্যারে হ্যান্ডলিং এবং জটিল ম্যাট্রিক্স ফাংশনগুলির জন্য রয়েছে “টেনসরফ্লো” এবং “সাইকিট ডিপ লার্নিং”, “ওপেনসিভি ইমেজ প্রসেসিং”, ডেটা অ্যানালাইসিসের জন্য “প্যান্ডাস”, ভিজ্যুয়ালাইজেশনের জন্য “ম্যাটপ্লটলিব”। 
  • গোল্যাং ও পিছিয়ে নেই বিল্ট-ইন লাইব্রেরির দিক থেকে, এর ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডেটাবেজ হ্যান্ডেলিং, কংকারেন্ট প্রোগ্রামিং এবং এনক্রিপশন জন্য অসংখ্য লাইব্রেরি রয়েছে। যদিও পাইথন এর তুলনায় সেটি অনেক কম। আবার এটি অপ্রয়োজনীয় লাইব্রেরি ইম্পোর্ট করা বা অপ্রয়োজনীয় ভেরিয়েবল তৈরি করার জন্য অনুমতি দেয় না। 

আলোচনা প্রায় শেষের দিকে: পরিশেষে যা বুঝা যায়-

উপরের উল্লিখিত আলোচনা থেকে, এটি কোনও সন্দেহ ছাড়াই বলা যেতে পারে যে পাইথন এবং গোল্যাং উভয়ই তাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে অনেক সক্রিয় ভূমিকা রাখে ওয়েব ডেভেলপমেন্টে। একজন ডেভেলপার তার প্রয়োজন সঠিক ল্যাংগুয়েজটি বেছে নিতে পারে। গোল্যাং নির্ভরযোগ্যতা পেয়েছে অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করার জন্য। অপর দিকে পাইথন ইআরপি (ERP) এর মতো বড় ও বিশাল এন্টারপ্রাইজ অ্যাপ্লিকেশন এবং সিকিউরিটির জন্য বেশ সমাদৃত। 

তাই পছন্দ আপনার! যেটা সকল চাহিদা পূরণ করবে সেটা নিয়েই কাজে লেগে পড়ুন। 

শুভ কামনা রইলো!


আপনার যদি এই আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকে, দয়া করে অন্যদের সাথেও শেয়ার করুন। আপনাদের প্রতিটি শেয়ার আমাদের প্রকাশনাটি অনেকের কাছে পৌছে যাবে যার ফলে আপনার মতো অনেকেই উপকৃত হবে।

লেখাটি পড়ে আপনার কেমন লাগলো?